গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানান আয়োজন আর আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল থেকেই গোটা ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান।
পতাকা উত্তোলন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনে এসে শেষ হয়। পরে উৎসবমুখর পরিবেশে কাটা হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ কেক।
এরপর বেলা ১০টা ৩০ মিনিটে একাডেমিক ভবনের ৫০১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ২৪ বছর হলেও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে প্রায় ১৫ বছর ধরে। নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে চলেছি। বর্তমানে স্বনির্ভর কর্মসূচি, ভাইস চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড এবং স্কলারশিপ চালু হয়েছে। সামনে বেস্ট টিচার ও রিসার্চার অ্যাওয়ার্ডও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য প্রথমে প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসা। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষার আদর্শকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে গেলে এই বিশ্ববিদ্যালয় সাফল্যের শিখরে পৌঁছাবে।”
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, “এক সময়ের বিরানভূমিতে গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ শত শত শিক্ষার্থী জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব, এই ‘ফুল’ গুলোর সঠিক পরিচর্যা করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো ৫টি বছর শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়, তাই তাদের তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও আয়োজক কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মজনুর রশিদ। সভায় আরও বক্তব্য দেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন, প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীব এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মো. বদরুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. দিপংকর কুমার, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. সোলাইমান হোসাইনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, প্রধান ফটক ও আবাসিক হলগুলোতে করা হয় মনোরম আলোকসজ্জা। আলোকিত ক্যাম্পাস জুড়ে তৈরি হয় এক স্বপ্নময় পরিবেশ, যা শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।