প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৩০, ২০২৫, ১২:২২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৭, ২০২৫, ৮:৩৮ এ.এম
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ১০ জুলাই

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আগামী ১০ জুলাই আদেশ দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (৭ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।
আদালতে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এর আগে, ১ জুলাই এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল। মামলার অপর আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ওইদিন আদালতে হাজির ছিলেন।
গত ১৬ জুন পলাতক আসামিদের হাজির করার জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। পরদিন (১৭ জুন) শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে তারা হাজির না হলে অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া চালানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে, ১ জুন এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
সেদিন আদালতে অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার ও মিজানুল ইসলাম। অভিযোগের ধারাবাহিকতায় মামলার শুনানি সংবাদ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১২ মে, তদন্ত সংস্থা ট্রাইব্যুনালে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উঠে আসে। অভিযোগে বলা হয়, সরকার পরিকল্পিতভাবে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়।
২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এই মামলার তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দেন। সময়ের আবেদন গ্রহণ করে আদালত তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে।
এর আগেও, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পৃথক দুটি মামলার তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে এক বিশাল ছাত্র-জনতা গণআন্দোলন শুরু হয়। এসময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ওই আন্দোলন দমনে সরকার নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে প্রাণ হারান প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এই গণহত্যার ঘটনাগুলোকেই মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার কাজ শুরু করেছে ট্রাইব্যুনাল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ছাত্রদের আন্দোলনকে ‘বিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়ে তা দমন করতে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে। হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যাপক ধরপাকড়, গুম এবং নির্যাতনের ঘটনাও উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
সবশেষ আদেশ অনুযায়ী, মামলার পরবর্তী শুনানি ও অভিযোগ গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হবে আগামী ১০ জুলাই। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাইব্যুনাল।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সেলিমা শিরীণ খান
সম্পাদক : এ.এস.এম. জিয়া উদ্দিন খান
নির্বহিী সম্পাদক : ফেরদ্দৌসী খান লিয়া
সহকারী সম্পাদক : আবুল ফাত্তাহ সজু
বার্তা সম্পাদক :
সম্পাদক কর্তৃক - ২৩৩ , শফি মন্জিল , মডেল স্কুল রোড, গোপালগঞ্জ থেকে প্রকাশিত।
Copyright © 2025 Daily Shirin