ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক যুব সম্মেলনে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আব্দুল হাকিম।
তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত-শিবিরকে নিশ্চিহ্ন করতে মামলা, হামলা, খুন, গুম এমনকি ফাঁসির মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। দলীয় রেজিস্ট্রেশন ও প্রতীক বাতিল করেছে। কিন্তু ইসলামি আন্দোলন থামেনি, থামবেও না। ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট ওই ফ্যাসিস্ট সরকার শুধু পদত্যাগ করেনি—দেশ ছেড়ে পালাতেও বাধ্য হয়েছিল। যারা জাতির ওপর জুলুম করে, তাদের পরিণতি এভাবেই হয়। ভবিষ্যতেও কেউ এমন চিন্তা করলে, তাদের পরিণতিও একই হবে।”
শনিবার (৫ জুলাই) ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়াম হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত যুব সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। মাওলানা হাকিম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, সাবেক জেলা আমির এবং ঠাকুরগাঁও-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “এতোদিন আমরা শুধু মুরুব্বিদের দিয়ে ভোট করেছি, যুবকদের গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু এবার যুবকদের দিয়ে নির্বাচন হবে। এবার জীবন দিয়ে হলেও ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ঠেকানো হবে। ইনশাআল্লাহ, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিজয় অর্জিত হবেই। দেশের স্বাধীনতা হয়েছে ৫৪ বছর আগে, কিন্তু আজও জনগণের মুক্তি আসেনি। দেশের প্রকৃত কল্যাণ আসবে কেবলমাত্র আল্লাহর আইনের মাধ্যমে।”
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি ও সাবেক ছাত্র নেতা অধ্যক্ষ শাহজালাল জুয়েল, জেলা শহর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আমজাদ হোসেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম।
এ সময় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দলের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।