ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা কুতুবিয়া দরবার শরীফের পবিত্র প্রাঙ্গণে ৫৪তম ঐতিহাসিক শাহাদাতে কারবালার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার, ৯ই মহররম (৫ জুলাই) দিনব্যাপী এই মাহফিলে দেশজুড়ে হাজারো আশেকান ও ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিবছরের মতো এবারও পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এ মাহফিল। মাছিহাতা দরবার শরীফের আ’লা হযরত শাহ সুফি কুতুবুর রহমান (রহ.)-এর নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত এই মাহফিল মূলত আহলে বাইতে রাসুল (সা.)-এর স্মরণে আয়োজন করা হয়।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাছিহাতা দরবার শরীফের পীর সাহেব, শাহ সুফি ফখরুল ইসলাম সিদ্দিকী। প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা করেন কুতুবিয়া দরবার শরীফ ও মাছিহাতা দরবার শরীফের খলিফা, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মো. ইলিয়াস। বিশেষ অতিথি হিসেবে শুভাগমন করেন ঢাকার আজিমপুর ছোট দায়রা শরীফের ৭ম গদিনশিন, সৈয়দ ফয়েজী মোহাম্মদী আহম্মদ উল্লাহ।
মাহফিলে বিশেষ বয়ান পেশ করেন দেশের বরেণ্য ইসলামি ব্যক্তিত্বরা। আলোচনায় অংশ নেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম মুজাহেদী, সাবেক প্রিন্সিপাল—ঢাকা মোহাম্মদপুর ক্বাদেরিয়া তৈয়বিয়া কামিল মাদ্রাসা; হযরত মাওলানা মোশারফ হোসাইন হেলালী, খতিব—ঢাকা আজিমপুর বাইতুল করিম জামে মসজিদ এবং হাফেজ মাওলানা আবু হানিফ আনোয়ারী, খতিব—ঢাকা আশকোনা বায়তুল মাহফুজ জামে মসজিদ। এছাড়াও আরও অনেক ওলামায়ে কেরাম মাহফিলে তাশরীফ আনেন।
মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয় মাগরিব বাদ মাজার জিয়ারত, তালিম ও খতম পাঠের মাধ্যমে। এরপর বাদ এশা শুরু হয় মূল ওয়াজ মাহফিল। কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার আলোচনা ও শিক্ষামূলক বয়ানে ভক্তরা আবেগাপ্লুত হন। বাদ ফজর অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত, এরপর তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
মাহফিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন দরবার শরীফের ভক্তবৃন্দের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ এনামুল হক কুতুবী। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল পবিত্রতা, আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় আবহ।
প্রসঙ্গত, মহররম মাসে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ কারবালার ঘটনার স্মরণে নানান মাহফিল আয়োজন করে। ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের এই স্মরণ মানুষকে ত্যাগ, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির বার্তা দেয়। কুতুবিয়া দরবার শরীফের এই আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতারই এক অনন্য উদাহরণ, যা প্রতিবছরই ভক্তদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলছে।