প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ২৮, ২০২৬, ৫:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৫, ২০২৫, ৪:৪৪ এ.এম
গরু জবাই নিষিদ্ধ, অথচ গরুর মাংস রপ্তানিতে বিশ্বে ২য় ভারত !

বিশ্বের অন্যতম বড় গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ এখন ভারত। প্রতিবছর দেশটি প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের গরুর মাংস রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রার খাতায় যোগ করছে বিশাল অঙ্ক।
মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ইরাকসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভারতীয় গরুর মাংসের চাহিদা আকাশছোঁয়া। টনকে টন মাংস পাঠানো হয় এসব দেশে। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, এই একই ভারতেই গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে বহু মানুষকে নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়।
ভারতে গরুর মাংস নিয়ে সহিংসতা নতুন নয়। ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তথাকথিত 'গো-রক্ষকদের' হাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৮ জন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম। এরপরও সহিংসতা থামেনি। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে গরু-সংক্রান্ত সংঘাতে আরও অন্তত ৫০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া বহু মানুষ প্রকাশ্যে মারধরের শিকার হয়েছেন, ভেঙে ফেলা হয়েছে ঘরবাড়ি, জেলেও ঠাঁই হয়েছে অনেকের।
অথচ এই রপ্তানি নিয়ে ভারত সরকারের ভূমিকাই স্পষ্ট। সরকার নিজেই মাংস রপ্তানির অনুমোদন দেয়, তদারকি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভর্তুকিও দিয়ে থাকে। দেশে এখন ৩,৬০০-এরও বেশি অনুমোদিত কসাইখানা চালু রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে গরুর মাংস বিদেশে রপ্তানি হয়।
সরাসরি বললে, একদিকে দেশের বাজারে গরুর মাংস নিয়ে ভয়, নিপীড়ন, গ্রেপ্তার আর সহিংসতা; অন্যদিকে বৈদেশিক বাজারে টনকে টন রপ্তানি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈপরীত্যই আসলে ভারতের 'দ্বিচারিতা'র নগ্ন চেহারা। একদিকে বিদেশে রপ্তানির জন্য জবাই বৈধ—বড় বড় রপ্তানিকারীরা অনেক সময় অমুসলিমও—আর অন্যদিকে দেশের ভেতরে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে নির্যাতনের শিকার হন মূলত মুসলিমরাই।
অনেকে বলছেন, এটি শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং ভোটের রাজনীতির খেলা। দেশের ভেতরে মাংস খাওয়া 'অপরাধ', কিন্তু বিদেশে রপ্তানি হলে তার নাম হয়ে যায় 'অর্থনৈতিক সাফল্য'।
সবশেষে প্রশ্ন থেকে যায়—যেখানে রপ্তানির জন্য বৈধভাবে গরুর মাংস জবাই হয়, সেখানে নিজ ঘরে তা খাওয়া কী করে 'অপরাধ' হয়ে দাঁড়ায়?
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সেলিমা শিরীণ খান
সম্পাদক : এ.এস.এম. জিয়া উদ্দিন খান
নির্বহিী সম্পাদক : ফেরদ্দৌসী খান লিয়া
সহকারী সম্পাদক : আবুল ফাত্তাহ সজু
বার্তা সম্পাদক :
সম্পাদক কর্তৃক - ২৩৩ , শফি মন্জিল , মডেল স্কুল রোড, গোপালগঞ্জ থেকে প্রকাশিত।
Copyright © 2025 Daily Shirin