এ জেড. আমিনুজ্জামান রিপন, গোপালগঞ্জ।। সৌদি আরবে কর্মরত শতাধিক রেমিটেন্স যোদ্ধার কষ্টার্জিত বেতনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ জেলার সদরের নিজড়া গ্রামের আব্দুল হান্নান শেখের ছেলে মামুন ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে। মামুন সৌদি আরবে এএজিসি ও এসিটি নামক সাপ্লাইয়ার কোম্পানির পরিচালক পরিচয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
শনিবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় গোপালগঞ্জ সদরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রবাসীদের পরিবার এই অভিযোগ তুলে ধরে। তারা জানান, প্রতারক মামুন ওরফে সাগর (আরও পরিচিত আব্দুল্লাহ নামেও) বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যাওয়া প্রায় ১০০ জন প্রবাসীর তিন মাসের বেতন আত্মসাৎ করে পলাতক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদেশে থাকা স্বজনরা পথে পথে ঘুরছেন, অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। দেশের পরিবারগুলো নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে প্রিয়জনদের বিদেশ পাঠিয়েছে একটু স্বচ্ছল জীবনের আশায়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতারক মামুনের জালিয়াতির কারণে দেশের পরিবারগুলো কষ্ট করে বাসা ভাড়া ও খাওয়ার টাকা পাঠাচ্ছে প্রবাসে অবস্থানরত স্বজনদের কাছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারক মামুনের পরিবারের কাছে বিচার চাইতে গেলে তারা উল্টো ভয়ভীতি ও মামলা করার হুমকি দিচ্ছে। মামুনের বোন জামাই মোহাম্মদ আল-আমিন ওরফে সোহেল, যিনি স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের একজন নেতা, টাকার জোরে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মামুন আত্মসাৎ করা টাকা দিয়ে তার বোন জামাইকে দিয়ে ইসলামপুরে কাপড়ের ব্যবসা করাচ্ছেন।
গোপালগঞ্জ সদর হরিদাসপুরের শামিম শেখের পিতা আবু সামা শেখ বলেন, “আমি আমার সর্বস্ব বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাইছি। ওখানে গিয়ে তার আয় করা প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা মামুন মেরে দিয়েছে। আমি কষ্ট করে খাওয়ার টাকা ও বাসা ভাড়া পাঠাই। অথচ মামুন সেই টাকা দিয়ে তার আত্মীয়দের ব্যবসা করায়।”
টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা গ্রামের ওয়াশিমের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার স্বামী প্রতারক মামুনের পাল্লায় পড়ে ২০ লক্ষ টাকা হারিয়েছে। আজ আমরা কষ্টে দিন কাটাই, অথচ আমাদের টাকা দিয়ে ওরা ব্যবসা করছে। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি—এই প্রতারণার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, মামুন ওরফে সাগরের ভাই মোহাম্মদ সোহাগ শেখ, বোন জামাই মোহাম্মদ আল-আমিন সোহেল এবং শ্বশুর মনির মোল্লা—এই প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সবাই মামুনের প্রতারণায় অংশ নিয়েছে এবং এর সুবিধাভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী নাদিম শেখের স্ত্রী রেশমা বেগম, শফিকুল ইসলামের স্ত্রী শারমিন, ওয়াশিমের স্ত্রী হুমাইরা সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তারা একবাক্যে বলেন, “আমরা এই ভয়ঙ্কর প্রতারক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ—এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে আমাদের স্বজনদের কষ্টের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।”
ভুক্তভোগীরা গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে এই প্রতারণার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।