গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সা: সম্পাদক পদের দাবিদার নব্বইয়ের গণআন্দোলনের নেতা ভিপি মঞ্জু

এ.জেড আমিনুজ্জামান রিপন, গোপালগঞ্জ।। দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষা শেষে আগামী ৫ই জুলাই গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্মেলনকে ঘিরে গোপালগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা, উদ্দীপনা এবং প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে পদ-পদবি প্রাপ্তির আশায় নেতাকর্মীরা যেমন সক্রিয় হয়েছেন, তেমনি মাঠে নেমে রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে চাঙ্গা করে তুলেছেন বহুদিন পর দৃশ্যমান নেতারা।
সাধারণ সম্পাদক পদে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন নব্বইয়ের দশকের আলোচিত ছাত্রনেতা এবং তৎকালীন সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ (বর্তমানে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ) ছাত্র সংসদের (১৯৯৪-৯৫ বর্ষের) বিপুল ভোটে নির্বাচিত ভিপি চৌধুরী মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু।
গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে ‘ভিপি মঞ্জু’ নামে পরিচিত এই নেতা বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং দাবি তুলে ধরছেন। অতীতে রাজনৈতিক হয়রানি ও সরকারি নিপীড়নের মুখে বহুবার তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে, তবে ছদ্মবেশে থেকেও দলের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।
চৌধুরী মঞ্জুরুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় গোপালগঞ্জ সরকারি এসএম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র অবস্থায়। ছাত্রদলের মিছিল বিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে- এমন ঘোষণায় বিদ্যালয়ের ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে সহপাঠীদের মিছিলে অংশ নিতে উৎসাহিত করার অভিযোগে একাধিকবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ১৯৯২ সালে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তবে ১৯৯৪ সালে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
তার আহ্বানে ১৯৯৫ সালের ২২ মার্চ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনসভা করেন এবং সেই জনসভায় কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু, গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ, হরিদাসপুর ব্রিজ এবং মোল্লার হাট ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেন। তৎকালীন কলেজ মসজিদ, হিন্দুদের উপাসনালয়, ইনডোর-আউটডোর খেলার মাঠ উন্নয়নে তার উদ্যোগ স্মরণীয়। এসব কর্মকান্ডে তাকে পাশে থেকে সমর্থন দেন তৎকালীন গোপালগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি শরফুজ্জামান জাহাঙ্গির, সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান নান্টু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পিনু, মুশফিকুর রহমান রেন্টু, সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি মৃত: বদরুল আলম নাসিম।
১৯৯৫ সালে বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে ভিপি মঞ্জুকে অভিনন্দন জানান বর্তমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে বছরেই তিনি গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পান এবং তৎকালীন সরকারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এর পর থেকেই শুরু হয় তার ওপর দমন-পীড়নের ধারা, যা তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে রাখতে বাধ্য করে। বর্তমানে আবারও সরব হয়ে মাঠে ফেরা এই নেতা জেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। অনেকেই মনে করছেন, দলীয় আদর্শে অনুপ্রাণিত ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভিপি মঞ্জুই হতে পারেন জেলার যোগ্য সাধারণ সম্পাদক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিপি মঞ্জু বলেন, “আমি ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করছি। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এ আদর্শ বুকে ধারণ করেছি, বাকি জীবনটাও এভাবেই কাটাতে চাই। আমি গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী। আমার নেতা তারেক রহমান যদি মনে করেন আমি এই পদের যোগ্য, তাহলে আমি আশাবাদী। তাঁর সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।”