দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে চীন-ভারতের যৌথ প্রতিশ্রুতি

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন ও ভারত।
সোমবার (২৩ জুন) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ অঙ্গীকার করা হয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চীন ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তবে সম্পর্ককে আরও গভীর করতে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা, যোগাযোগ আরও উন্নত করা এবং বিদ্যমান বাস্তব সমস্যাগুলোর যৌথভাবে সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, “উভয় পক্ষকেই উপলব্ধি করতে হবে যে, আমরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নই বরং উন্নয়নের অংশীদার। একে অপরের জন্য হুমকি নয়, বরং সম্ভাবনার উৎস হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশই উপকৃত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “দুই দেশকে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে একে অপরের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়াতে হবে এবং দুটি প্রাচীন ও প্রাজ্ঞ সভ্যতার প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্র হিসেবে সংবেদনশীল ইস্যুগুলো সংবেদনশীলভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তবেই সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।”
বৈঠকে ওয়াং ই চীন-ভারত সম্পর্কের আরও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন স্তরের বিনিময় এবং যোগাযোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সম্মেলনে অংশ নিতে চীন সফর করছেন। এই জোটটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সহযোগিতার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বৈঠক শেষে দিল্লি থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, উভয় পক্ষ ভারত-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। বিশেষভাবে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।