গোপালগঞ্জ পৌরসভার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৫৫ কোটি ৮৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩৬১ টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে এবারের বাজেটে ভোক্তা পর্যায়ের কোনো সার্ভিসেই অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়নি। হোল্ডিং ট্যাক্স, ভবন নির্মাণ ফি, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কিংবা পানির বিল—সবই আগের হারেই বহাল থাকবে।
সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে এই বাজেট ঘোষণা করেন গোপালগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) বিশ্বজিৎ কুমার পাল। বাজেটে আয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৮৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৬১ টাকা। এতে উদ্বৃত্ত থাকছে ৩৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৯ টাকা।
পৌরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে এবারের বাজেটে বেশ কিছু নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক পানি শোধনাগার নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আলোকসজ্জা এবং মশক নিধন কার্যক্রম। এসব কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহরের নাগরিক সুবিধায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পৌর প্রশাসক।
বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক পৌরসভা গড়ে তুলতে। এজন্য নাগরিকদের সময়মতো ট্যাক্স ও বিল পরিশোধে আরও সচেতন হতে হবে। শহরের উন্নয়নে পৌরসভার পাশাপাশি নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম রকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই বাজেট অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মুহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক লাখসানা লাকী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আ. কাদের সরদার, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. জ্যোৎস্না খাতুন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক কে এম মাহমুদ আলী, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী মোল্লা, কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেন মোল্লা, পৌর প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী মাহফুজুর রহমান লাবলু, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন্ত কুমার বিশ্বাস, ক্যাশিয়ার বিরাজ কুমার বিশ্বাসসহ পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
বাজেট ঘোষণার পর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। পৌর প্রশাসন জানান, এসব পরামর্শ ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।