সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকাগুলোতে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। রাস্তার মাঝখানে যানবাহন থামিয়ে, দোকানে ঢুকে এবং পথচারীদের সামনে শুঁড় বাড়িয়ে টাকা আদায় করছে হাতির মাহুত। এ অবস্থায় ক্ষোভ জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (২১ জুন) দুপুরে উপজেলার নওগাঁ, মহিষলুটি ও মান্নাননগর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হাতি নিয়ে টাকা তুলতে দেখা গেছে এক মাহুতকে। চলন্ত বাস, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে শুরু করে ছোট দোকান—সবই যেন চাঁদাবাজির টার্গেট। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিটি দোকান থেকে ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
নওগাঁ বাজারের এক মুদি দোকানি বলেন, “হাতি এসে শুঁড় ঢুকিয়ে দিল দোকানে। টাকা না দিলে সে যাবে না, আর ভয় লাগে যদি কিছু ভেঙে ফেলে। তাই ৩০ টাকা দিয়ে বিদায় করলাম।”
চাঁদাবাজির কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যানবাহন চালকরাও। অটোরিকশাচালক নুরুল হোসেন বলেন, “৫০ টাকার যাত্রায় ২০ টাকা চাঁদা দিয়ে দিলাম। কিন্তু এটুকু দিয়েই শেষ নয়, আবার সামনে দেখা হলে আবার দিতে হয়। এটা একটা দুর্ভোগ।”
হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কেও একই চিত্র দেখা গেছে। যানবাহন থামিয়ে হাতির মাধ্যমে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। কেউ কেউ হাতিকে এড়িয়ে চলতে গিয়ে বিপজ্জনকভাবে রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, চাঁদা না দিলে হাতি দিয়ে ভয় দেখানো হয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এভাবে হাতি নিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি চলছে। শিশু ও নারী ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন, যা ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতির মাহুত মনির বলেন, “হাতি লালন-পালন করতে অনেক খরচ। তাই বাধ্য হয়ে মানুষের কাছ থেকে কিছু টাকা তুলি। আমরা জোর করি না।”
তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা একে অন্যভাবে দেখছেন। তাড়াশ থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “এটি জনবিরক্তিকর কাজ, তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, “এ ধরনের চাঁদাবাজি দুঃখজনক ও অমানবিক। দ্রুত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তাড়াশ উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, “হাতি পালনের জন্য অবশ্যই লাইসেন্স, চারণভূমি, খাদ্য ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা থাকতে হয়। এভাবে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বেআইনি।”
স্থানীয়দের দাবি, হাতিকে বনের প্রাণী হিসেবে ফিরিয়ে নেওয়া হোক, এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে সড়কে হাতি ব্যবহার বন্ধ করা হোক। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন সচেতন মহল।