বরগুনায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ ৭ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি। শুক্রবার (২০ জুন) বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বরাবর একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়। সংগঠনের নেতারা বলেন, বরগুনার স্বাস্থ্যসেবা খাত চরম অব্যবস্থাপনার শিকার। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, সংকট আরও গভীর হবে।
প্রতিবাদকারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো বরগুনায় একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা। এছাড়া জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে শূন্যপদে চিকিৎসক নিয়োগ, আড়াইশ শয্যার হাসপাতালের জনবল ও বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, রোগ নির্ণয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
মানববন্ধনে আরও দাবি করা হয়, সরকারি হাসপাতালে ঔষধের সরবরাহ ও খাবারের মান উন্নত করতে হবে। জেলার রোগীবাহী সুবিধা বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে আরও দুইটি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর মতো মহামারি মোকাবেলায় ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম পাঠানোর দাবি জানানো হয়।
এছাড়া, যেসব চিকিৎসক বরগুনায় পদায়নের পরও যোগদান করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “জনগণের চিকিৎসার অধিকার নিয়ে অবহেলা চলতে পারে না। এই জেলায় স্বাস্থ্যসেবা এক ধরনের মর্যাদাহানির শিকার।”
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল হাফিজ, জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ, নারীনেত্রী আফরোজ সুলতানা আখি, রোগী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক গোলাম কবির, সিপিপির জয়দেব রায়, সংগ্রামের কে এম আশরাফ ও অ্যাডভোকেট সোহেল।
নেতারা বলেন, উপকূলীয় এই জেলায় আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা এখনও অধরা। রোগীদের ঢাকায় কিংবা বরিশালে ছুটতে হয়। বরগুনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ এখন সময়ের দাবি। সরকার যদি এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে এগিয়ে না আসে, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।