ফুটপাত থেকে শতকোটির মালিক বাগেরহাটের শেখ কামরুল

এ.জেড আমিনুজ্জামান রিপন, গোপালগঞ্জ।। বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার চিংগড়ি গ্রামের সাধারণ পরিবারের সন্তান শেখ কামরুল হাসান। এক সময় তিনি ছিলেন ছোটখাটো ধান ভাঙা তুষের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার ঘনিষ্ঠতায় তিনি এক নাটকীয় উত্থানের পথ ধরে প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে রাজধানীর গুলশান থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে আসীন হন।
অভিযোগ রয়েছে, দলীয় পরিচয়ের সুবিধা নিয়ে তিনি শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। গুলশান লেক এলাকায় জবরদখল করে গড়ে তোলেন মাছের খামার এবং এক অসহায় নারীর সম্পত্তি দখল করে নির্মাণ করেন একটি বহুতল ভবন।
আরো অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের ছেলেকে গুলশান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বানিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল, প্রতারণা এবং চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার মতো কর্মকাণ্ড চালাতেন। কেবল রাজধানী নয়, নিজ গ্রাম চিংগড়ীতেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজের নাবালক চাচাতো ভাইয়ের নামে থাকা ১০ শতাংশ জমি জাল দলিল তৈরি করে জোরপূর্বক দখল করে তিনি সেখানে নির্মাণ করেছেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি ও আরো একটি বহুতল ভবন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের চাপ ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মুখে তিনি ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। তবে পরিস্থিতি পাল্টে গেলে আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুরনো ভঙ্গিতে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। এলাকাবাসীর দাবি, তার নামে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং সেই অস্ত্র দেখিয়ে তিনি স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখান।
২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর গোপালগঞ্জ সফরের সময় সংঘটিত হামলায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদার নিহত হন এবং কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কামরুল বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টরা রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারি মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।