নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের মোকওয়া শহরে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১৫ জন। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনো শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।
গত বুধবার মোকওয়াতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়। ভারী বৃষ্টির কারণে শহরের কাছে একটি বাঁধ ধসে পড়লে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। মুহূর্তেই বন্যার পানি প্লাবিত করে শত শত ঘরবাড়ি। নাইজারের রাজধানী মিন্নার অপারেশনস প্রধান হুসেনি ইশাহ জানিয়েছেন, “অনেক মানুষ এখনো বিপদের মধ্যে আছেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র ইব্রাহিম ওদু হুসেইনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত ১১৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। আরও মরদেহ নদীতে ভেসে থাকতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।” তিনি আরও জানান, বন্যার প্রবল স্রোতে অনেক মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নাইজার নদী, যেখানে এখনো মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
শহরটির ২৯ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী মোহাম্মদ তানকো বলেন, “বাড়িটি ভেসে গেছে, আমরা সব হারিয়েছি। আমার পরিবারের ১৫ জন সদস্য নিখোঁজ।” তার মতো হাজারো মানুষ এখন আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মোকওয়া শহরটি নাইজার রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। দক্ষিণ নাইজেরিয়ার বাণিজ্য কেন্দ্র এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে সংযোগস্থল হিসেবে এই শহরের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এই শহরে এমন দুর্যোগ অর্থনৈতিকভাবেও প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, নাইজেরিয়ায় বর্তমানে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে, যা প্রায় ছয় মাস স্থায়ী হয়। বর্ষার প্রথম দিকেই এমন বিপর্যয় দেশটির জন্য একটি অশনিসংকেত। আবহাওয়া বিভাগ ইতোমধ্যে দেশের ৩৬টি রাজ্যের মধ্যে ১৫টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।