নেছারাবাদের বার্ষিক মাহফিল আরম্ভ

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম ও বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ হযরত আজিজুর রহমান কায়েদ ছাহেব হুজুর প্রতিষ্ঠিত ঝালকাঠি নেছারাবাদ এন এস কামিল মাদ্রাসা ময়দানে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত বার্ষিক মাহফিল। দুই দিনব্যাপী এই মহাসম্মেলনের উদ্বোধন হয় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) পবিত্র জুমার নামাজের পর। নেছারাবাদ দরবার কমপ্লেক্সের পরিচালক আমিরুল মুসলেহীন হযরত মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদীর উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রথম দিনটি শুক্রবার হওয়ায় সকাল থেকেই ঝালকাঠি, বরিশালসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ দলে দলে জড়ো হতে থাকেন মাদ্রাসা মাঠে। জুমার আজানের আগেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মুসল্লির সমাগমে। এতে বরিশাল অঞ্চলের বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয় ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসা মাঠে, যা স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক অনন্য দৃশ্য রচনা করে।
মাহফিলের জুমার জামাতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মোমিন উদ্দিনসহ দুই জেলার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে একই সারিতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। এতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ মাহফিলকে আরও তাৎপর্যময় করে তোলে।
উদ্বোধনী বয়ানে বক্তারা বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। যুগে যুগে ইসলামিক গবেষক ও ওলামায়ে কেরাম সমাজে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়ে মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে সহায়তা করেছেন। ইসলামের আদর্শই পারে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধে গড়া সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে।”
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ এই সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি দেশ-সমাজে ইসলামের শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মাহফিলকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ব্যবস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীদের তৎপরতায় আগত মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী নেছারাবাদ মাহফিলের পরিসমাপ্তি হবে ২৩ নভেম্বর, রবিবার সকালে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও বড় সংখ্যায় মুসল্লির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।