গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার এসিল্যান্ড অফিস যেন আজাবের দপ্তর

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়কে ঘিরে সম্প্রতি ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়ে উঠেছেন সাধারণ সেবা গ্রহীতারা। জনস্বার্থে জেলা প্রশাসক ও গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ তুলে ধরে এক ভুক্তভোগী আঃ আহাদ এই দপ্তরকে ‘আজাবের দপ্তর’ আখ্যা দিয়েছেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, “আপনার অধীনে থাকা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর অফিস একসময় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হতো। কিন্তু সম্প্রতি দপ্তরটি সেবা গ্রহীতাদের জন্য দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।”
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কানুনগো মুজিবর রহমান, অফিস সহকারী বিল্লাল শরিফ, নাইট গার্ড নয়ন পাইক, এম.এল.এস.এস মাছুমা ও নাহিদ মিলে অফিসটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। নামজারি ও ভূমি-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবার জন্য ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ পৌঁছানোর পর ভোরের বাণীর প্রতিনিধি সরেজমিনে দপ্তরটি পরিদর্শন করে ও বিভিন্ন সেবা গ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে ঘুষ গ্রহণের প্রাথমিক সত্যতা পান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, “সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নামজারির জন্য এক থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা না দিলে মাসের পর মাস অফিসের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে নাজেহাল হতে হয়।”
তাদের দাবি, কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলে কর্মকর্তারা ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করেন। এ ঘুষ লেনদেনের নেতৃত্বে আছেন কানুনগো মুজিবর রহমান ও অফিস সহকারী বিল্লাল শরিফ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জানান, “অফিসে যা কিছু ঘটে, তা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশেই হয়। অনিয়মের সঙ্গে তিনিও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।”
কিছুদিন আগে এসি ল্যান্ড মিজ বাবলী শবনম অফিসে বসে এক বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ওই ভুক্তভোগী তখন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, “অফিসে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, জেলা প্রশাসন তাদের কেবল বদলি করেই দায় সারে। কঠোর পদক্ষেপের অভাবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কানুনগো মুজিবর রহমান, অফিস সহকারী বিল্লাল শরিফ, নাইট গার্ড নয়ন পাইক, এম.এল.এস.এস মাছুমা ও নাহিদ সকলেই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম বলেন, “অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার দপ্তরে কোনো অনিয়ম পেলে আমাকে আগে জানাতে পারেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবো। আমি ব্যবস্থা না নিলে তখন সংবাদ প্রকাশ করুন।”
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম. রকিবুল হাসান বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব জেলা প্রশাসক এখনো আমাকে দেননি। দায়িত্ব পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”