দেশে মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্যের হার বেড়েছে ২১.২ শতাংশ

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪.৮ শতাংশ হতে পারে। তবে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থান বাজার ভালো নেই। দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি এবং শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ হ্রাসের ফলে সামগ্রিক শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২০.৫ শতাংশ থেকে ২১.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৬০.৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৮.৯ শতাংশে নেমেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমবাজারের বাইরে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ৩০ লাখ কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখই নারী। এটি দেশের নারী কর্মসংস্থান সংকটে পড়ার এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে উপস্থিত ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, “অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ হ্রাসের ফলে সামগ্রিক শ্রমবাজারের কার্যকারিতা কমেছে। এতে দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থান উভয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট কর্মসংস্থান প্রায় ২০ লাখ কমে ৬ কোটি ৯১ লাখ (৬৯.১ মিলিয়ন) হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান-জনসংখ্যা অনুপাতও ২.১ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫৬.৭ শতাংশে নেমেছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা জানানো হয়েছে যে, নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ পুনরায় বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থান সংকট আরও তীব্র হতে পারে।