গোপালগঞ্জে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ‘অফিসার্স ক্লাব টেনিস টুর্নামেন্ট’। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান। টেনিসপ্রেমীদের প্রাণচাঞ্চল্যে জমে উঠেছে জেলা শহর; দর্শক-সমর্থকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থল উৎসবে রূপ নিয়েছে।
দ্বিতীয় টেনিস ট্যুর সিরিজের অংশ হিসেবে ‘টেনিস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ’ এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হামীমুর রহমান ভোরের বাণীকে জানান, গোপালগঞ্জ, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, মাগুরাসহ ১৩ জেলার মোট ২৩টি দল অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যাই প্রমাণ করে যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে টেনিস এখন শক্ত ভিত পাচ্ছে।
টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে গোপালগঞ্জ অফিসার্স ক্লাব ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাঠে। আয়োজকদের ভাষ্য, স্থানীয় দর্শক ও খেলোয়াড়দের সুবিধায় দুই মাঠে ভাগ করে সূচি সাজানো হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব খেলা সম্পন্ন করা যায়। শুক্রবার সারাদিন লিগ ও নকআউট পর্বের ম্যাচ চলবে, আর আগামীকাল শনিবার হবে ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
স্থানীয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের মতে, এ ধরনের আন্তজেলা টেনিস টুর্নামেন্ট জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও খেলোয়াড় গড়ার ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। শিশু-কিশোর ও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের খেলায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই আয়োজনকারীরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য গ্যালারি উন্মুক্ত রেখেছেন। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জের ক্রীড়া অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল ও ক্রিকেটে বেশি জোর থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেনিসের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কোচিং ক্যাম্প, স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা এবং আন্তজেলা ট্যুর—এসব উদ্যোগে প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা উঠে আসছেন। বিশেষজ্ঞদের আশা, ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এখানকার খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য এনে দিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ‘অফিসার্স ক্লাব টেনিস টুর্নামেন্ট’ শুধু বিনোদন নয়; ক্রীড়াসুলভ মনোভাব, সামাজিক সম্প্রীতি ও স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে। আয়োজকরা দর্শকদের খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন ও উৎসাহ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।