দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে অভিযুক্ত জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ নানা সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি তার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তারের এমপিও (বেতন-ভাতা) বাতিল করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এমন অবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করায় আবারো প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
আজ, ২৩ সেপ্টেম্বর, প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ নিজ কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। সেখানে স্পষ্টভাবে অভিযোগ ওঠে, আবুল কালাম আজাদ এবং তার শ্যালিকা শরিফা আক্তার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চাকরি স্থায়ী করে বেতন-ভাতা ভোগ করেছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৮ আগস্ট তাদের এমপিও বাতিল করে মাউশি।
এত গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বলছেন, সরকারি কক্ষ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বপক্ষ সমর্থন করা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী। অফিস কক্ষ অফিসিয়াল কাজের জন্য নির্ধারিত; সেখানে ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন করা অশুদ্ধাচার ও অনৈতিক কাজ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন— “দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেই মাউশি এমপিও বাতিল করেছে। তারপরও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কক্ষে বসে সংবাদ সম্মেলন করা মূলত সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার।”
সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অশুদ্ধাচারের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—অভিযুক্ত শিক্ষক সরকারি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ পেলেন কীভাবে।