ফরিদপুরে ১৩ বছরের এক নাবালিকা শিশুকে ধর্ষণের মামলায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক শিশু আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার যোগিবরাট গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে মো. সজীব শেখ (২৬) এবং ইসলাম মোল্লার ছেলে মো. সোহেল মোল্লা (২৫)। আর ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন একই গ্রামের আবু বক্কার মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ ইয়াসিন মোল্লা। ইয়াসিন ঘটনার সময় বয়সে শিশু ছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই রাতে ভুক্তভোগী কিশোরী পরিবারের সঙ্গে টেলিভিশন দেখছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিউবওয়েলে হাত-মুখ ধোয়ার সময় আসামিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ শেষে মুখ বেঁধে ফেলে রেখে যায়।
পরিবার শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে এক আসামির বাড়ির উঠানে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার তিন দিন পর, ২০১৮ সালের ২ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিলে দীর্ঘ সাত বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন— “আমরা রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। এ রায় ধর্ষকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”