মুকসুদপুরে বিএডিসি’র সহকারী ভান্ডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ।। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সিন্ধিয়া ঘাট এলাকায় সরকারি বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন)-এর গুদামে সহকারী ভান্ডার কর্মকর্তা অনির্বাণ কীর্তনীয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬ বছর ধরে একই পদে কর্মরত এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি সার সরবরাহে নিয়ম ভঙ্গ করে তৎপর থাকার একাধিক প্রমাণ মিলেছে।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি অনুসন্ধানী গণমাধ্যম দল সরেজমিনে গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, অনুমতিপত্র (ডিও) এবং বৈধ চালান ছাড়াই ট্রাকে সরকারি সার বোঝাই করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাকচালকরা জানান, সহকারী ভান্ডার কর্মকর্তা অনির্বাণ কীর্তনীয়া তাদের সার লোড করতে বলেছেন। একজন চালক বলেন, “আমার ট্রাকে ২০ টন সার রয়েছে, যা পাচ্চর পৌঁছে দিতে হবে।”
এ সময় অভিযুক্ত কর্মকর্তা অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের খবরে তিনি তড়িঘড়ি অফিসে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চালান। তবে বিষয়টি ক্যামেরায় বলতে অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এভাবে কাজ করছেন বলে দাবি করেন এবং পরক্ষণেই রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান।
গুদামের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০১৯ সালে অনির্বাণ কীর্তনীয়া রাজনৈতিক পরিচিতি ও প্রভাবের কারণে এখানে যোগদান করেন এবং এখন পর্যন্ত একই স্থানে থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়েই দুর্নীতির জাল গড়ে উঠেছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা ফেরার পথে অনির্বাণ কীর্তনীয়া সাংবাদিকদের ভিডিও করে হুমকি দেন এবং বলেন, “এই গুদামে পুলিশও ভয় পায় আসতে, সাংবাদিকরা কী করতে পারবে।”
এ বিষয়ে ফরিদপুর বিএডিসি’র সহকারী পরিচালক (সার) মো. সাইম মল্লিক জানান, চালান ছাড়া কোনো অবস্থাতেই সার গুদাম থেকে বাইরে নেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, “অনির্বাণ কীর্তনীয়া চাকরির শুরু থেকেই ওই গুদামে কর্মরত রয়েছেন।”
সরকারি সার বিতরণে এ ধরনের অনিয়ম শুধু কৃত্রিম সংকটই তৈরি করছে না, বরং কৃষকদের নিরুপায় করে তুলছে। অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ে জমিতে সার না পেয়ে চড়া দামে ভেজাল সার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষি উৎপাদন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষকরা।