প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১৩, ২০২৬, ১০:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫, ৯:২০ এ.এম
বিচার বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে

হাইকোর্ট আজ (মঙ্গলবার) বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সংবলিত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ বহাল রাখার রায় দিয়েছেন।
এ রায়ের ফলে অধস্তন আদালতে দায়িত্ব পালনরত বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, বদলি, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলা বিধানের পুরো দায়িত্ব পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরে এসেছে।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবনা অনুসারে তিন মাসের মধ্যে একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৭ সালে তৈরি করা শৃঙ্খলাবিধিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া এবং ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম।
আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, “এ রায়ের ফলে বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফেরত এসেছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নামে বিচারকদের বদলি বা শৃঙ্খলা বিধান বাস্তবায়নে আর আইন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ থাকবে না। তারা এখন নির্ভয়ে রায় দিতে পারবেন, আর কোনো রকমের প্রশাসনিক ভীতি থাকবে না। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়।”
রায়ের প্রক্রিয়া সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চলেছে। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আহমেদ সোহেল রায় ঘোষণার নেতৃত্ব দেন।
এর আগে ১৩ আগস্ট বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয়। এই মামলা গত ২৩ এপ্রিল চূড়ান্ত শুনানির জন্য ধার্য করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২০ এপ্রিল এই রিটের শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
মূল মামলাটি ২৫ আগস্ট গত বছরের, ১০ জন আইনজীবীর পক্ষে দায়ের করা হয়। এতে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়। বর্তমান সংশোধিত সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে।’ তবে মূল ১৯৭২ সালের সংবিধানে এটি সুপ্রিম কোর্টের হাতে ছিল।
রায়ের ফলে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাবিধি ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব দূর হয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুসংহত হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সেলিমা শিরীণ খান
সম্পাদক : এ.এস.এম. জিয়া উদ্দিন খান
নির্বহিী সম্পাদক : ফেরদ্দৌসী খান লিয়া
সহকারী সম্পাদক : আবুল ফাত্তাহ সজু
বার্তা সম্পাদক :
সম্পাদক কর্তৃক - ২৩৩ , শফি মন্জিল , মডেল স্কুল রোড, গোপালগঞ্জ থেকে প্রকাশিত।
Copyright © 2025 Daily Shirin