“কমিটির তালিকা না দিয়ে প্রার্থীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে— সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা এ্যাড. মনিরুল ইসলাম হাওলাদারের”

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা বিএনপি’র আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন কাউন্সিলে তিনি চেয়ার প্রতীক নিয়ে লড়বেন।
শুক্রবার সকাল ১১টায় রায়পুর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ৬নং কেরোয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, পৌর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ভূঁইয়া কামাল রায়হান, ১০নং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম, বাসেদ হাওলাদার ও সাবেক ছাত্রনেতা মো. জুয়েল সিরাজী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এ্যাড. মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমি গত ৩০ বছর রায়পুর উপজেলা বিএনপি’র দায়িত্ব পালন করেছি। ২২ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও দলের হাল ধরে রেখেছি। দলের দুর্দিনে মামলা পরিচালনা করেছি, কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্ত করেছি। অথচ আমাকে কমিটিতে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৭ ডিসেম্বর আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময় তাকে শুধুমাত্র সদস্য করা হয়েছে, অথচ অন্য উপজেলাগুলোতে সভাপতিদের আহ্বায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না করে পকেট কমিটি বানানো হয়েছে, যা তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
মনিরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল ইসলাম মিঠুর কাছে ইউনিয়ন কমিটির তালিকা চেয়েছি। কিন্তু আমাকে কোন তালিকা দেওয়া হচ্ছে না। এতে পরিষ্কার বোঝা যায় আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়ন করতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রায়পুর উপজেলা বিএনপি’র কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই কাউন্সিলে সভাপতি পদে চেয়ার প্রতীকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ্যাড. মনিরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, জনগণ ও দলের কর্মীরা তাকে সমর্থন দেবেন।