সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ী সবুর মার্কেটে জ্বালানি তেলের গোডাউনে আগুন

সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ী বাজারে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এক জ্বালানি তেলের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সবুর মার্কেটে মেসার্স অরুপ স্টোরের গোডাউন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্বনাথ হালদারের ছেলে শান্তি ঠাকুর ও আনারুল সরদারের ছেলে হাফিজুল সরদার গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি খাস জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী সবুর খান ফিংড়ী বাজারে এই মার্কেট গড়ে তোলেন। তিনি কখনো নিজেকে বিএনপি নেতা, আবার কখনো আওয়ামী লীগ কর্মী দাবি করে প্রভাব বিস্তার করেছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একজন সাইকেল মিস্ত্রি রাতারাতি কীভাবে বিশাল মার্কেটের মালিক হলেন, তা নিয়ে এলাকায় চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাইসেন্স বা কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই মেসার্স অরুপ স্টোরে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেনের মতো দাহ্য পদার্থ বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পুরো সাতক্ষীরার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজারেও অসংখ্য অবৈধ দোকানে এই তেল বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
পেট্রোলিয়াম আইন অনুসারে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানে জ্বালানি তেল বিক্রি করা যায় না। প্রয়োজন আধাপাকা ঘর, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব শর্ত উপেক্ষা করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা চালাচ্ছেন।
এছাড়া চোরাই পথে আসা নিম্নমানের কনডেনসেট বা তলানি মিশিয়ে ভেজাল তেল বিক্রি হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এসব ভেজাল তেল ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হচ্ছে, অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে এবং যাত্রীদের চোখ জ্বালা করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, “অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব দোকানের কারো কাছেই বিস্ফোরক লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই।”
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমেদ জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই অবৈধ জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানুষ আশঙ্কা করছে, যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।