নলছিটিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

ঝালকাঠির নলছিটি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, কমিটি গঠনে স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ লেনদেন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়নের মাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এ অভিযোগ তুলে রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নলছিটি পৌর এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের একনিষ্ঠ কর্মী মো. সজিব দেওয়ান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে আটটির কমিটি গঠন করা হলেও দীর্ঘ আড়াই বছরে ১ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো কমিটি হয়নি। সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট হঠাৎ করে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ঘোষিত কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল পেদা একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় মাদক মামলা রয়েছে (জি.আর. মামলা নং-১৬/২২)। একই সঙ্গে সদস্য সচিবের পদও ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া আহবায়ক কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগচাঁদাবাজি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, ঠিকাদারের মালামাল চুরি, নদীপথে জাহাজ আটকিয়ে লুটপাট এবং জমি দখল। অন্যদিকে সদস্য সচিব সোহেল খানের বিরুদ্ধেও নলছিটি পৌরসভার এক প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় মামলা (মামলা নং-১৩) দায়ের হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এই কমিটি ঘোষণার পর থেকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১৬ জন ওয়ার্ড আহবায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহবায়ক লিখিতভাবে জেলা কমিটির কাছে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন এবং অপসারণের আবেদন করেছেন। কিন্তু জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারীরা কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কাছে অবিলম্বে ঘোষিত কমিটি বাতিল এবং বিতর্কিত আহবায়ক কামরুজ্জামান সুমন ও সদস্য সচিব সোহেল খানের বহিষ্কার দাবি করেছেন। অন্যথায় ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।