বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে প্রাচীন গ্রীক নাটক ‘তর্পণ বাহকেরা’। নাটকটি রচনা করেছিলেন বিশ্বনন্দিত নাট্যকার এস্কাইলাস। আগামী ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে নাটকটি মঞ্চস্থ করবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ।
প্রযোজনাটি অনুবাদ করেছেন মোবাশ্বের আলী এবং পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় থাকবেন নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ক্যাথরিন পিউরীফিকেশন। নাটকটি মঞ্চায়ন করবে বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (১৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী দিয়া চৌধুরী, যিনি কোরাস সদস্য হিসেবে অংশ নিচ্ছেন, বলেন— “শিল্পকলায় প্রথমবারের মতো এই গ্রিক নাটকটি মঞ্চায়িত হওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। হাজার বছরের পুরনো হলেও এ নাটকের আবেগ ও প্রশ্নগুলো আজও প্রাসঙ্গিক। দর্শকদের আহ্বান জানাব, আপনারা শুধু নাটক দেখতে আসবেন না, আমাদের এই ঐতিহাসিক যাত্রার অংশ হোন।”
ইলেক্ট্রা চরিত্রে অভিনয় করছেন অথৈ দাস মেঘলা। তিনি বলেন— “ইউরিপিদিস, সফোক্লিস কিংবা এস্কাইলাসের নাটক আমরা এতদিন বইয়ে পড়েছি। এবার সেটি দর্শকের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠবে। আশা করি, এই নাটক দর্শকদের অন্তরে দাগ কেটে যাবে।”
ইজিসথাস চরিত্রে অভিনয় করা আলিশান প্রবাহ জানান— “গ্রিক ট্র্যাজেডি শুধু নাটক নয়, এটি মানবীয় আবেগ, দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য সম্পদ। তর্পণ বাহকেরা বাংলার মঞ্চে আসা এক সাহসী পদক্ষেপ। দর্শকরা বিনোদনের পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতির গভীরতাও খুঁজে পাবেন।”
অরেস্টিস চরিত্রে অভিনয় করছেন সৌমেন মণ্ডল। তিনি বলেন— “গ্রীক ট্র্যাজেডি নিয়ে দেশে কাজ খুব কম হয়। তর্পণ বাহকেরা সম্পূর্ণ নতুন ধারা। আমরা ভালো কিছু উপহার দিতে চাই।”
নাটকের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ক্যাথরিন পিউরীফিকেশন জানান— “এ নাটকটি মূলত পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের করুণ ইতিহাস। যেখানে পিতা কন্যাকে বলি দেন, স্ত্রী স্বামীকে হত্যা করেন বা পুত্র মাকে হত্যা করে। এ নির্মমতা মানবসভ্যতারই প্রতিচ্ছবি। বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতেও আমরা একই রকম নৃশংসতা দেখি। এই নাটকটি সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরবে।”
বাংলাদেশে গ্রীক নাটক নিয়ে এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা। নাট্যপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।