সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে — শাহ্ ওয়ারেছ আলী মামুন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির ময়মনসিংহ বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহ্ ওয়ারেছ আলী মামুন বলেছেন, বিএনপি এদেশের মাটি ও মানুষের দল। জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভাগ্যোন্নয়নের জন্য বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি ও বিরোধী মতের মানুষের ওপর দমন-নিপীড়ন চালিয়েছেন। গত ১৭ বছরে দেশে বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।
শাহ্ ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটলেও দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার এখনও ফিরে আসেনি। পতিত স্বৈরাচার দেশের বিরুদ্ধে ভারতের মাটিতে বসে ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি দাবি করেন। ফ্যাসিবাদ যাতে আর কখনও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, এজন্য সব ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। আসন্ন নির্বাচন বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট হয়, জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাবে।” তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার দুপুরে নেত্রকোনা পাবলিক হলে সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মজিবুর রহমান খান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মো. তাজেজুল ইসলাম ফারাস সুজাত।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী, এডভোকেট মো. খোরশেদ মিয়া আলম, এডভোকেট ড. আরিফা জেসমিন নাহীন, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. মজিবুর রহমান খান ও তাজেজুল ইসলাম ফারাস সুজাত। সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু ও এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক। প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে সরাসরি ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।