প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৩, ২০২৬, ৮:৩০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১১, ২০২৫, ৫:০০ এ.এম
বিলাইছড়িতে অর্থবছর শেষ হলেও এডিপি’র প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত, অভিযোগ রয়েছে একি প্রতিষ্ঠানে একাধিক প্রকল্প গ্রহণে

২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর একাধিক প্রকল্প এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ— উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া উন্নয়ন তহবিলের বড় অংশই ব্যয় হয়েছে নীলাদ্রি রিসোর্ট ও তার আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়নে, যেখানে প্রায় ২৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বিলাইছড়িতে এডিপির আওতায় মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৮ হাজার টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে শুধু নীলাদ্রি রিসোর্টকেন্দ্রিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৭ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— অনলাইন বুকিং সিস্টেম উন্নয়ন, নীলাদ্রি লেকের উন্নয়ন ও কায়াকিংয়ের জন্য নৌকা সরবরাহ, লেকে যাওয়ার সিঁড়ি নির্মাণ, রিসোর্ট ও শিশু পার্কের দুই পাশে গেইট সংস্কার, বটতলী-পরিহলা এবং পুকুরপাড়া কটেজ সংস্কার, মাছ ধরার মাচাং নির্মাণ, কটেজের অভ্যন্তরীণ সুবিধা বৃদ্ধি, জিআই তারের ঘেরা বেড়া নির্মাণ ও ট্যুরিস্ট বোট সার্ভিস চালু। এছাড়া উপজেলা পরিষদকে ঘিরেও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক প্রকল্প নেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন— উপজেলায় এত উন্নয়নের ক্ষেত্র থাকা সত্ত্বেও কেন একটি নির্দিষ্ট বিনোদন কেন্দ্রকে ঘিরে এতগুলো প্রকল্প নেওয়া হলো? অভিযোগ রয়েছে, প্রতি অর্থবছরেই নীলাদ্রিতে একাধিক প্রকল্প বরাদ্দ হয়, কিন্তু রিসোর্ট থেকে অর্জিত আয় কোথায় ব্যয় হয় সে বিষয়ে জনসাধারণ অজ্ঞাত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। কায়াকিংয়ের জন্য সরবরাহ করা দুটি নৌকার মধ্যে একটি উদ্বোধনের আগেই পানিতে ডুবে রয়েছে। স্থানীয় হস্তশিল্প প্রদর্শনী কেন্দ্র সংস্কারের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে দোকান চালু হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা ক্যাফের সংস্কার ও ঘেরা নির্মাণ প্রকল্পও দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত অবস্থায় আছে।
প্রকল্প গ্রহণের সময় তৎকালীন ইউএনও ও প্রশাসক ছিলেন জামশেদ আলম রানা। পরে রাজস্থলীর ইউএনও সজীব কান্তি রুদ্র অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তানভীর হোসেন দুই মাসেরও বেশি সময় দায়িত্বে থাকার পর বর্তমান ইউএনও মুহাম্মদ মামুনুল হক অর্থবছর শেষে দায়িত্বে আছেন।
বিলাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম ফকির বলেন, “বরাদ্দকৃত টাকা ইউনিয়ন ভিত্তিক সমানভাগে প্রকল্প দেওয়ার কথা। তবে নীলাদ্রিতে এত টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা অফিস থেকে দেখতে হবে। অনুমোদন ছাড়া একই প্রতিষ্ঠানে এতগুলো প্রকল্প দেওয়া ঠিক হয়নি।”
উপজেলা প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন জানান, জুন ক্লোজিংয়ের কারণে টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাই বিটি করে রেখে দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ হলে ছবি ও পরিদর্শনের পর ঠিকাদারকে টাকা প্রদান করা হবে। তিনি স্বীকার করেন, এ বছর নীলাদ্রিতে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং ১০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, “আমার যোগদানের আগে প্রকল্পগুলো অনুমোদন হয়েছিল। তবে বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সেলিমা শিরীণ খান
সম্পাদক : এ.এস.এম. জিয়া উদ্দিন খান
নির্বহিী সম্পাদক : ফেরদ্দৌসী খান লিয়া
সহকারী সম্পাদক : আবুল ফাত্তাহ সজু
বার্তা সম্পাদক :
সম্পাদক কর্তৃক - ২৩৩ , শফি মন্জিল , মডেল স্কুল রোড, গোপালগঞ্জ থেকে প্রকাশিত।
Copyright © 2025 Daily Shirin