মানবিক বিপর্যয়ের খবর প্রকাশিত হলে তাৎক্ষনিকভাবে

করতোয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মাজেদা খাতুন (৫৫)। তার শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছিলেন তিনি।
রোববার (১০ আগস্ট) বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই মানবিক বিপর্যয়ের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে বগুড়া-৫ ও বগুড়া-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিএম সিরাজের ছেলে, বগুড়া জেলা ও শেরপুর উপজেলা বিএনপি কার্যনির্বাহী সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানীর।
তাৎক্ষণিকভাবে সকাল ১১টায় তার পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল মাজেদা খাতুনের খোঁজখবর নেয় এবং বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়ের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে টিন দিয়ে সহায়তা প্রদান করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বিপ্লব, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফরিদ, শেরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি মেম্বার বাবলু, সাবেক আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী বুলু, সুঘাট ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম মানু, সুঘাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম রেজা, ভবানীপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবি তাহের, ওয়ার্ড সভাপতি নুরুল আমিন, জিএম সম্রাটসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে শেরপুর উপজেলার সুঘাট ও মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা, বিনোদপুর ও মাওনা এলাকায় অন্তত পাঁচটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি বাড়ি, একটি এতিমখানা, হাফেজিয়া মাদরাসা এবং একমাত্র কবরস্থান ভাঙনের মুখে রয়েছে।
বিশেষ করে উত্তরপাড়া গ্রামের মাজেদা খাতুন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। নদীর বাঁকের প্রবল স্রোত এবং বাঙালি নদী খননের প্রভাবে করতোয়া নদীর ভাঙন গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান জানান, গত শনিবার তিনি ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাশিয়াবালা পয়েন্টে ভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে।